Dhaka , Sunday, 8 November 2026
সর্বশেষ:
শৈলকুপায় জাতীয় সংহতি ও বিপ্লব দিবস উপলক্ষে র‍্যালি ও আলোচনা সভা অনুষ্ঠিত ঝিকরগাছা পৌর সদরে দুধর্ষ চুরি : বৃদ্ধাকে ধাক্কা দিয়ে ফেলে ৪ লাখ টাকার মালপত্র লুট ঝিকরগাছায় জাতীয় সমবায় দিবস পালিত বাগেরহাটে নানা আয়োজনে সমবায় দিবস উদযাপন পুঠিয়ায় টাফেন্টাডল ও ইয়াবা টেবলেটসহ তিনজন আটক চৌগাছায় সমবায় দিবস পালিত সমবায় সমিতিকে পুরস্কার প্রদান ঠাকুরগাঁওয়ে ওয়ারিশান সনদে জীবিত ব্যক্তিকে মৃত দেখানোর অভিযোগ প্যানেল চেয়ারম্যানের বিরুদ্ধে ঠাকুরগাঁওয়ে ডিবির মাদকবিরোধী অভিযান: ইয়াবাসহ দুই ভাইবোন গ্রেফতার নওগাঁ সদর মডেল থানায় নতুন ওসি হিসেবে মো. মিন্টু রহমানের যোগদান লালপুরে গরম পানি ঢেলে আপন ভাবী ও ভাতিজার শরীর ঝলসে দিল নিষিদ্ধ সংগঠন ছাত্রলীগ নেতা ইমরান আলী

সুন্দরবনে বিষ দিয়ে মাছ শিকারের অভিযোগে ‘মূল হোতা’ সুমন গ্রেপ্তার

  • Reporter Name
  • Update Time : 04:08 pm, Tuesday, 1 September 2026
  • 135 Time View
মোঃ আবু বকর সিদ্দিক  মোংলা (বাগেরহাট):
সুন্দরবনে নিষেধাজ্ঞা উপেক্ষা করে বিষ প্রয়োগে মাছ শিকার এবং রাজনৈতিক প্রভাব খাটিয়ে জেলেদের একটি চক্র পরি চালনার অভিযোগে শাহরিয়ার সুমনকে আটক করেছে মোং লা থানা পুলিশ।
স্থানীয়দের ভাষ্য, বিষ দিয়ে মাছ শিকারের চক্রের ‘মূল হো তা’ হিসেবে সুমনের নাম দীর্ঘদিন ধরে আলোচনায় ছিল।
সম্প্রতি দৈনিক যশোর বার্তায় সুন্দরবনে বিষ প্রয়োগ করে মাছ শিকারের অভিযোগ নিয়ে সংবাদ প্রকাশের পর সো মবার রাতে তাকে আটক করা হয়।
সোমবার রাত সাড়ে ১০টার দিকে মোংলা উপজেলার বৈদ্য মারী বাজার এলাকা থেকে শাহরিয়ার সুমনকে আটক করে পুলিশ। স্থানীয়দের কাছে তিনি নিজেকে যুবদল কর্মী হিসেবে পরিচয় দিতেন বলে জানা গেছে। তবে স্থানীয় সূত্রের দাবি, যুবদলে তার কোনো সাংগঠনিক পদ নেই।
পুলিশ সূত্রে জানা গেছে, সুন্দরবনে বিষ প্রয়োগ করে মাছ শিকারের অভিযোগে দায়ের করা মামলায় সুমনকে আটক করা হয়েছে।
তার আটকের পর সুন্দরবনে বিষ প্রয়োগ করে মাছ শিকার, এর সঙ্গে জড়িত চক্র এবং রাজনৈতিক প্রভাব খাটিয়ে তা দের রক্ষা করার অভিযোগ নতুন করে সামনে এসেছে।
এর আগে গত শনিবার (২৯ আগস্ট) দুপুরে মোংলা উপ জেলার সুন্দরবন ইউনিয়নের গোড়াবুড়বুড়িয়া এলাকায় সুন্দরবনের চাঁদপাই রেঞ্জের একটি খাল থেকে বিষ দিয়ে মাছ ধরে ফেরার সময় স্থানীয় গ্রামবাসী প্রায় ২০০ কেজি মাছ ও একটি নৌকাসহ দুই জেলেকে হাতেনাতে আটক করেন।
আটক দুই জেলে হলেন সুন্দরবন ইউনিয়নের ১ নম্বর ওয়া র্ডের বাসিন্দা মুহিদুল হাওলাদার এবং মোংলার চিলা ইউনি য়নের বাসিন্দা নাঈম শেখ। স্থানীয়দের অভিযোগ, আটকের পর প্রভাবশালী একটি মহলের হুমকি-ধমকিতে মাছ ও নৌ কাসহ ওই দুই জেলেকে ছেড়ে দেওয়া হয়।
ঘটনাস্থলে স্থানীয়দের ধারণ করা একটি ভিডিও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়ে। ভিডিওতে জিজ্ঞাসাবাদের সময় ওই দুই জেলে দাবি করেন, নিষেধাজ্ঞা উপেক্ষা করে তারা সুন্দরবনে বিষ প্রয়োগ করে মাছ ধরেছেন এবং শাহরি য়ার সুমনের পাঠানোতেই তারা সুন্দরবনে গিয়েছিলেন।
তবে জেলেদের এমন বক্তব্য সরাসরি অস্বীকার করেছিলেন শাহরিয়ার সুমন। ঘটনার পর তার মোবাইল ফোনে যোগা যোগ করা হলে তিনি দাবি করেন, সুন্দরবনে মাছ ধরার জন্য তিনি কাউকে পাঠাননি।
স্থানীয় বাসিন্দাদের অভিযোগ, গত ৫ আগস্টের পর শাহরি য়ার সুমন সুন্দরবনে বিষ প্রয়োগ করে মাছ শিকারের জন্য প্রায় ৫০টি নৌকায় ২০০ জনেরও বেশি জেলেকে সংগঠিত করেন। এসব জেলে সুন্দরবনের বিভিন্ন খালে নিয়মিত বিষ প্রয়োগ করে মাছ আহরণ করতেন বলেও অভিযোগ স্থানী য়দের।
তাদের আরও অভিযোগ, বিষ প্রয়োগ করে অবৈধভাবে মাছ শিকারের মাধ্যমে সুমন বিপুল সম্পদের মালিক হয়েছেন।
তার চক্রের কোনো জেলে সুন্দরবনে মাছ ধরতে গিয়ে বন বিভাগের কর্মকর্তাদের হাতে আটক হলে রাজনৈতিক প্রভাব খাটিয়ে তাদের ছাড়িয়ে নেওয়া হতো বলেও দাবি করেছেন স্থানীয়রা।
এ সময় বিএনপির নাম ও রাজনৈতিক পরিচয়ের প্রভাব দেখিয়ে বন কর্মকর্তাদের ওপর চাপ সৃষ্টি করা হতো এমন অভিযোগও রয়েছে স্থানীয়দের।
তবে এসব অভিযোগের স্বাধীন সত্যতা তাৎক্ষণিকভাবে যাচাই করা সম্ভব হয়নি।
স্থানীয়দের দাবি, সুন্দরবনে বিষ প্রয়োগ করে মাছ শিকারের সঙ্গে সুমনের পাশাপাশি আরও কয়েকজন প্রভাবশালী ব্যক্তি জড়িত থাকতে পারেন।
তারা সুমনের আটকের পাশাপাশি পুরো চক্রের সদস্যদের শনাক্ত করে আইনের আওতায় আনার দাবি জানিয়েছেন।
এদিকে শনিবার গ্রামবাসীর হাতে আটক হওয়ার পর ছেড়ে দেওয়া প্রায় ২০০ কেজি মাছ ও নৌকাটি এখনো পুলিশ বা বন বিভাগের জব্দে আসেনি বলে জানা গেছে।
ফলে বিষ প্রয়োগ করে মাছ শিকারের অভিযোগের গুরুত্ব পূর্ণ আলামত হিসেবে বিবেচিত ওই মাছ ও নৌকাটি উদ্ধার ও জব্দ করা সম্ভব হয়নি।
স্থানীয়রা বলছেন, মাছ ও নৌকাটি উদ্ধার করে জব্দ এবং প্রয়োজনীয় পরীক্ষা-নিরীক্ষার আওতায় আনা গেলে বিষ প্রয়োগে মাছ শিকারের অভিযোগের প্রকৃত রহস্য উদঘাটনে তা গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখতে পারে।
একই সঙ্গে আটক দুই জেলেকে কারা ছেড়ে দিয়েছিল এবং তাদের ওপর কারা প্রভাব বা চাপ প্রয়োগ করেছিল, সেটিও তদন্তের দাবি জানিয়েছেন তারা।
ঘটনার ভিডিও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়ার পর সুন্দরবনজুড়ে ব্যাপক আলোচনা ও ক্ষোভের সৃষ্টি হয়। বিষয়টি তদন্তে সুন্দরবন পূর্ব বন বিভাগ পাঁচ সদস্যের একটি তদন্ত কমিটি গঠন করেছে।
শরণখোলা রেঞ্জ কর্মকর্তা (এসিএফ) মো. শরীফুল ইসলা মকে প্রধান করে গঠিত ওই কমিটিকে পাঁচ কার্যদিবসের মধ্যে তদন্ত প্রতিবেদন দিতে বলা হয়েছে।
সুন্দরবন পূর্ব বন বিভাগের বিভাগীয় বন কর্মকর্তা (ডিএফও) মো. রেজাউল করিম চৌধুরী জানান, বিষ প্রয়োগ করে মাছ ধরার একটি ভিডিও ফুটেজ তারা সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে দেখেছেন।
ঘটনাটি তদন্ত করে দেখার জন্য পাঁচ সদস্যের কমিটি গঠন করা হয়েছে। তদন্ত প্রতিবেদন পাওয়ার পর ঘটনায় জড়ি তদের বিরুদ্ধে আইনানুগ ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
শাহরিয়ার সুমনকে আটকের বিষয়টি নিশ্চিত করে মোংলা থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) আতিকুর রহমান বলেন, “সুন্দরবনে বিষ প্রয়োগ করে মাছ শিকারের মামলায় শাহরি য়ার সুমনকে আটক করা হয়েছে। মঙ্গলবার সকালে তাকে আদালতে পাঠানো হয়েছে ।
ঘটনাটি গুরুত্বের সঙ্গে তদন্ত করা হচ্ছে। এর সঙ্গে আরও কেউ জড়িত রয়েছে কি না, তা খতিয়ে দেখা হচ্ছে। তদন্তে অভিযোগের সত্যতা ও সংশ্লিষ্টতার প্রমাণ পাওয়া গেলে জড়িতদের বিরুদ্ধে দ্রুত আইনানুগ ব্যবস্থা নেওয়া হবে।”
সুন্দরবনের নদী-খাল ও জলজ জীববৈচিত্র্য রক্ষায় বিষ প্রয়োগ করে মাছ শিকার বন্ধে বন বিভাগ ও পুলিশের অভি যান আরও জোরদারের দাবি জানিয়েছেন স্থানীয়রা।
তাদের দাবি, রাজনৈতিক পরিচয়, প্রভাব কিংবা কোনো ধরনের চাপের ঊর্ধ্বে উঠে সুন্দরবনে বিষ প্রয়োগ করে মাছ শিকারের পুরো চক্রকে শনাক্ত করতে হবে।
একই সঙ্গে সুন্দরবনের জলজ সম্পদ ধ্বংসকারী ব্যক্তিদের বিরুদ্ধে তদন্ত সাপেক্ষে কঠোর আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হলে এ ধরনের অবৈধ কর্মকাণ্ড বন্ধে কার্যকর ভূমিকা রাখবে।#
About Author Information

Popular Post

শৈলকুপায় জাতীয় সংহতি ও বিপ্লব দিবস উপলক্ষে র‍্যালি ও আলোচনা সভা অনুষ্ঠিত

সুন্দরবনে বিষ দিয়ে মাছ শিকারের অভিযোগে ‘মূল হোতা’ সুমন গ্রেপ্তার

Update Time : 04:08 pm, Tuesday, 1 September 2026
মোঃ আবু বকর সিদ্দিক  মোংলা (বাগেরহাট):
সুন্দরবনে নিষেধাজ্ঞা উপেক্ষা করে বিষ প্রয়োগে মাছ শিকার এবং রাজনৈতিক প্রভাব খাটিয়ে জেলেদের একটি চক্র পরি চালনার অভিযোগে শাহরিয়ার সুমনকে আটক করেছে মোং লা থানা পুলিশ।
স্থানীয়দের ভাষ্য, বিষ দিয়ে মাছ শিকারের চক্রের ‘মূল হো তা’ হিসেবে সুমনের নাম দীর্ঘদিন ধরে আলোচনায় ছিল।
সম্প্রতি দৈনিক যশোর বার্তায় সুন্দরবনে বিষ প্রয়োগ করে মাছ শিকারের অভিযোগ নিয়ে সংবাদ প্রকাশের পর সো মবার রাতে তাকে আটক করা হয়।
সোমবার রাত সাড়ে ১০টার দিকে মোংলা উপজেলার বৈদ্য মারী বাজার এলাকা থেকে শাহরিয়ার সুমনকে আটক করে পুলিশ। স্থানীয়দের কাছে তিনি নিজেকে যুবদল কর্মী হিসেবে পরিচয় দিতেন বলে জানা গেছে। তবে স্থানীয় সূত্রের দাবি, যুবদলে তার কোনো সাংগঠনিক পদ নেই।
পুলিশ সূত্রে জানা গেছে, সুন্দরবনে বিষ প্রয়োগ করে মাছ শিকারের অভিযোগে দায়ের করা মামলায় সুমনকে আটক করা হয়েছে।
তার আটকের পর সুন্দরবনে বিষ প্রয়োগ করে মাছ শিকার, এর সঙ্গে জড়িত চক্র এবং রাজনৈতিক প্রভাব খাটিয়ে তা দের রক্ষা করার অভিযোগ নতুন করে সামনে এসেছে।
এর আগে গত শনিবার (২৯ আগস্ট) দুপুরে মোংলা উপ জেলার সুন্দরবন ইউনিয়নের গোড়াবুড়বুড়িয়া এলাকায় সুন্দরবনের চাঁদপাই রেঞ্জের একটি খাল থেকে বিষ দিয়ে মাছ ধরে ফেরার সময় স্থানীয় গ্রামবাসী প্রায় ২০০ কেজি মাছ ও একটি নৌকাসহ দুই জেলেকে হাতেনাতে আটক করেন।
আটক দুই জেলে হলেন সুন্দরবন ইউনিয়নের ১ নম্বর ওয়া র্ডের বাসিন্দা মুহিদুল হাওলাদার এবং মোংলার চিলা ইউনি য়নের বাসিন্দা নাঈম শেখ। স্থানীয়দের অভিযোগ, আটকের পর প্রভাবশালী একটি মহলের হুমকি-ধমকিতে মাছ ও নৌ কাসহ ওই দুই জেলেকে ছেড়ে দেওয়া হয়।
ঘটনাস্থলে স্থানীয়দের ধারণ করা একটি ভিডিও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়ে। ভিডিওতে জিজ্ঞাসাবাদের সময় ওই দুই জেলে দাবি করেন, নিষেধাজ্ঞা উপেক্ষা করে তারা সুন্দরবনে বিষ প্রয়োগ করে মাছ ধরেছেন এবং শাহরি য়ার সুমনের পাঠানোতেই তারা সুন্দরবনে গিয়েছিলেন।
তবে জেলেদের এমন বক্তব্য সরাসরি অস্বীকার করেছিলেন শাহরিয়ার সুমন। ঘটনার পর তার মোবাইল ফোনে যোগা যোগ করা হলে তিনি দাবি করেন, সুন্দরবনে মাছ ধরার জন্য তিনি কাউকে পাঠাননি।
স্থানীয় বাসিন্দাদের অভিযোগ, গত ৫ আগস্টের পর শাহরি য়ার সুমন সুন্দরবনে বিষ প্রয়োগ করে মাছ শিকারের জন্য প্রায় ৫০টি নৌকায় ২০০ জনেরও বেশি জেলেকে সংগঠিত করেন। এসব জেলে সুন্দরবনের বিভিন্ন খালে নিয়মিত বিষ প্রয়োগ করে মাছ আহরণ করতেন বলেও অভিযোগ স্থানী য়দের।
তাদের আরও অভিযোগ, বিষ প্রয়োগ করে অবৈধভাবে মাছ শিকারের মাধ্যমে সুমন বিপুল সম্পদের মালিক হয়েছেন।
তার চক্রের কোনো জেলে সুন্দরবনে মাছ ধরতে গিয়ে বন বিভাগের কর্মকর্তাদের হাতে আটক হলে রাজনৈতিক প্রভাব খাটিয়ে তাদের ছাড়িয়ে নেওয়া হতো বলেও দাবি করেছেন স্থানীয়রা।
এ সময় বিএনপির নাম ও রাজনৈতিক পরিচয়ের প্রভাব দেখিয়ে বন কর্মকর্তাদের ওপর চাপ সৃষ্টি করা হতো এমন অভিযোগও রয়েছে স্থানীয়দের।
তবে এসব অভিযোগের স্বাধীন সত্যতা তাৎক্ষণিকভাবে যাচাই করা সম্ভব হয়নি।
স্থানীয়দের দাবি, সুন্দরবনে বিষ প্রয়োগ করে মাছ শিকারের সঙ্গে সুমনের পাশাপাশি আরও কয়েকজন প্রভাবশালী ব্যক্তি জড়িত থাকতে পারেন।
তারা সুমনের আটকের পাশাপাশি পুরো চক্রের সদস্যদের শনাক্ত করে আইনের আওতায় আনার দাবি জানিয়েছেন।
এদিকে শনিবার গ্রামবাসীর হাতে আটক হওয়ার পর ছেড়ে দেওয়া প্রায় ২০০ কেজি মাছ ও নৌকাটি এখনো পুলিশ বা বন বিভাগের জব্দে আসেনি বলে জানা গেছে।
ফলে বিষ প্রয়োগ করে মাছ শিকারের অভিযোগের গুরুত্ব পূর্ণ আলামত হিসেবে বিবেচিত ওই মাছ ও নৌকাটি উদ্ধার ও জব্দ করা সম্ভব হয়নি।
স্থানীয়রা বলছেন, মাছ ও নৌকাটি উদ্ধার করে জব্দ এবং প্রয়োজনীয় পরীক্ষা-নিরীক্ষার আওতায় আনা গেলে বিষ প্রয়োগে মাছ শিকারের অভিযোগের প্রকৃত রহস্য উদঘাটনে তা গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখতে পারে।
একই সঙ্গে আটক দুই জেলেকে কারা ছেড়ে দিয়েছিল এবং তাদের ওপর কারা প্রভাব বা চাপ প্রয়োগ করেছিল, সেটিও তদন্তের দাবি জানিয়েছেন তারা।
ঘটনার ভিডিও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়ার পর সুন্দরবনজুড়ে ব্যাপক আলোচনা ও ক্ষোভের সৃষ্টি হয়। বিষয়টি তদন্তে সুন্দরবন পূর্ব বন বিভাগ পাঁচ সদস্যের একটি তদন্ত কমিটি গঠন করেছে।
শরণখোলা রেঞ্জ কর্মকর্তা (এসিএফ) মো. শরীফুল ইসলা মকে প্রধান করে গঠিত ওই কমিটিকে পাঁচ কার্যদিবসের মধ্যে তদন্ত প্রতিবেদন দিতে বলা হয়েছে।
সুন্দরবন পূর্ব বন বিভাগের বিভাগীয় বন কর্মকর্তা (ডিএফও) মো. রেজাউল করিম চৌধুরী জানান, বিষ প্রয়োগ করে মাছ ধরার একটি ভিডিও ফুটেজ তারা সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে দেখেছেন।
ঘটনাটি তদন্ত করে দেখার জন্য পাঁচ সদস্যের কমিটি গঠন করা হয়েছে। তদন্ত প্রতিবেদন পাওয়ার পর ঘটনায় জড়ি তদের বিরুদ্ধে আইনানুগ ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
শাহরিয়ার সুমনকে আটকের বিষয়টি নিশ্চিত করে মোংলা থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) আতিকুর রহমান বলেন, “সুন্দরবনে বিষ প্রয়োগ করে মাছ শিকারের মামলায় শাহরি য়ার সুমনকে আটক করা হয়েছে। মঙ্গলবার সকালে তাকে আদালতে পাঠানো হয়েছে ।
ঘটনাটি গুরুত্বের সঙ্গে তদন্ত করা হচ্ছে। এর সঙ্গে আরও কেউ জড়িত রয়েছে কি না, তা খতিয়ে দেখা হচ্ছে। তদন্তে অভিযোগের সত্যতা ও সংশ্লিষ্টতার প্রমাণ পাওয়া গেলে জড়িতদের বিরুদ্ধে দ্রুত আইনানুগ ব্যবস্থা নেওয়া হবে।”
সুন্দরবনের নদী-খাল ও জলজ জীববৈচিত্র্য রক্ষায় বিষ প্রয়োগ করে মাছ শিকার বন্ধে বন বিভাগ ও পুলিশের অভি যান আরও জোরদারের দাবি জানিয়েছেন স্থানীয়রা।
তাদের দাবি, রাজনৈতিক পরিচয়, প্রভাব কিংবা কোনো ধরনের চাপের ঊর্ধ্বে উঠে সুন্দরবনে বিষ প্রয়োগ করে মাছ শিকারের পুরো চক্রকে শনাক্ত করতে হবে।
একই সঙ্গে সুন্দরবনের জলজ সম্পদ ধ্বংসকারী ব্যক্তিদের বিরুদ্ধে তদন্ত সাপেক্ষে কঠোর আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হলে এ ধরনের অবৈধ কর্মকাণ্ড বন্ধে কার্যকর ভূমিকা রাখবে।#