Dhaka , Sunday, 8 November 2026
সর্বশেষ:
শৈলকুপায় জাতীয় সংহতি ও বিপ্লব দিবস উপলক্ষে র‍্যালি ও আলোচনা সভা অনুষ্ঠিত ঝিকরগাছা পৌর সদরে দুধর্ষ চুরি : বৃদ্ধাকে ধাক্কা দিয়ে ফেলে ৪ লাখ টাকার মালপত্র লুট ঝিকরগাছায় জাতীয় সমবায় দিবস পালিত বাগেরহাটে নানা আয়োজনে সমবায় দিবস উদযাপন পুঠিয়ায় টাফেন্টাডল ও ইয়াবা টেবলেটসহ তিনজন আটক চৌগাছায় সমবায় দিবস পালিত সমবায় সমিতিকে পুরস্কার প্রদান ঠাকুরগাঁওয়ে ওয়ারিশান সনদে জীবিত ব্যক্তিকে মৃত দেখানোর অভিযোগ প্যানেল চেয়ারম্যানের বিরুদ্ধে ঠাকুরগাঁওয়ে ডিবির মাদকবিরোধী অভিযান: ইয়াবাসহ দুই ভাইবোন গ্রেফতার নওগাঁ সদর মডেল থানায় নতুন ওসি হিসেবে মো. মিন্টু রহমানের যোগদান লালপুরে গরম পানি ঢেলে আপন ভাবী ও ভাতিজার শরীর ঝলসে দিল নিষিদ্ধ সংগঠন ছাত্রলীগ নেতা ইমরান আলী

রাজনৈতিক অস্থিরতার মাঝেও দক্ষিণ-পশ্চিমাঞ্চলের অর্থনৈতিক প্রাণকেন্দ্রে পরিণত হচ্ছে মোংলা সমুদ্র বন্দর

  • Reporter Name
  • Update Time : 03:27 pm, Wednesday, 7 January 2026
  • 105 Time View
মোঃ আবু বকর সিদ্দিক মোংলা বাগেরহাট :
রাজনৈতিক অস্থিরতার প্রভাব উপেক্ষা করে দেশ-বিদেশে র পণ্য আমদানি ও রফতানিতে ধারাবাহিক অগ্রগতি ধরে রেখেছে মোংলা সমুদ্র বন্দর। চলতি ২০২৫–২৬ অর্থবছ রে প্রায় ১ কোটি ৩০ লক্ষ মেট্রিক টন পণ্য আমদানি-রফতানির লক্ষ্যমাত্রা নিয়ে কাজ করছে বন্দর কর্তৃপক্ষ। এই প্রবৃদ্ধির ধারাবাহিকতায় মোংলা বন্দরকে ঘিরে দক্ষি
ণ-পশ্চিমাঞ্চলের অর্থনীতিতে এসেছে উল্লেখযোগ্য পরিব র্তন ও গতি।
সংশ্লিষ্টদের মতে, ভৌগোলিক অবস্থান, নাব্যতা ও আধুনি ক অবকাঠামোর কারণে মোংলা সমুদ্র বন্দর একটি সম্ভা বনাময় নৌ-বাণিজ্য কেন্দ্র।
ব্যবসায়ীরা যদি এই বন্দরকে আরও কার্যকরভাবে ব্যব হার করেন, তবে মোংলা শুধু বাংলাদেশের নয়—দক্ষিণ এশিয়ার একটি গুরুত্বপূর্ণ নৌ-বাণিজ্য ও অর্থনৈতিক কর্মকাণ্ডের কেন্দ্রস্থলে পরিণত হতে পারে।
বন্দর সূত্রে জানা গেছে, চলতি অর্থবছরের প্রথম ছয় মাসে মোংলা বন্দর দিয়ে পণ্য পরিবহনে ৪৪০টি বাণি জ্যিক জাহাজ আগমন করেছে।
এর মধ্যে ২৭টি কনটেইনারবাহী জাহাজে বিভিন্ন ধরনের বিদেশি পণ্য আমদানি করা হয়েছে। যেখানে ২০২৪–২৫ অর্থবছরে পুরো বছরে মোট ২১ হাজার ৪৫৬ টিইইউএস কনটেইনার হ্যান্ডলিং করা হয়েছিল, সেখানে চলতি অর্থব ছরের মাত্র ছয় মাসেই ১৭ হাজার ৪০০ টিইইউএস কনটে ইনার হ্যান্ডলিং করা হয়েছে—যা বন্দরের কার্যক্রমে উল্লে খযোগ্য অগ্রগতির স্পষ্ট প্রমাণ।
একই সময়ে মোংলা বন্দর দিয়ে ১৬টি জাহাজে ৫ হাজার ২২২টি জাপানি রিকন্ডিশন গাড়ি আমদানি ও খালাস করা হয়েছে, যা আমদানিকারকদের আস্থার প্রতিফলন হিসেবে দেখা হচ্ছে।
মোংলা সমুদ্র বন্দরকে কেন্দ্র করে ইতোমধ্যে গড়ে উঠেছে অর্ধশতাধিক শিল্পকারখানা, রপ্তানি প্রক্রিয়াজাতকরণ অঞ্চল (ইপিজেড) ও বিশেষ অর্থনৈতিক অঞ্চল।
এর ফলে সরাসরি ও পরোক্ষভাবে ৩০ থেকে ৩৫ হাজার মানুষের কর্মসংস্থান সৃষ্টি হয়েছে। পণ্য আমদানি-রফতানি বৃদ্ধির পাশাপাশি ধারাবাহিকভাবে বাড়ছে বন্দরের রাজস্ব আয়ও, যা জাতীয় অর্থনীতিতে ইতিবাচক অবদান রাখ ছে।
মোংলা বন্দর কর্তৃপক্ষের উপ-পরিচালক মোঃ মাকরুজ্জা মান জানান, মোংলা সমুদ্র বন্দরে বর্তমানে বহুমুখী উন্নয়ন কার্যক্রম চলমান রয়েছে।
অবকাঠামো উন্নয়ন, আধুনিক যন্ত্রপাতি সংযোজন ও সেবা সম্প্রসারণের মাধ্যমে বন্দরের সক্ষমতা আরও বাড়া নো হচ্ছে। পাশাপাশি বেশ কয়েকটি বড় মেগা প্রকল্প বাস্ত বায়নের কাজ চলছে।
এসব প্রকল্প সম্পন্ন হলে দক্ষিণ-পশ্চিমাঞ্চলে নতুন শিল্পা য়ন ত্বরান্বিত হবে এবং ব্যাপক কর্মসংস্থানের সুযোগ সৃষ্টি হবে বলে আশা করা হচ্ছে।
সব মিলিয়ে, রাজনৈতিক বাস্তবতার চ্যালেঞ্জ মোকাবিলা করেও মোংলা সমুদ্র বন্দর আজ দেশের বাণিজ্যিক কর্ম কাণ্ডে একটি গুরুত্বপূর্ণ ভরকেন্দ্র হিসেবে আত্মপ্রকাশ করেছে।
সঠিক পরিকল্পনা ও কার্যকর ব্যবস্থাপনার মাধ্যমে এই বন্দর ভবিষ্যতে জাতীয় অর্থনীতির পাশাপাশি আঞ্চলিক বাণিজ্যেও আরও বড় ভূমিকা রাখবে—এমনটাই মনে কর ছেন সংশ্লিষ্টরা।#
About Author Information

Popular Post

শৈলকুপায় জাতীয় সংহতি ও বিপ্লব দিবস উপলক্ষে র‍্যালি ও আলোচনা সভা অনুষ্ঠিত

রাজনৈতিক অস্থিরতার মাঝেও দক্ষিণ-পশ্চিমাঞ্চলের অর্থনৈতিক প্রাণকেন্দ্রে পরিণত হচ্ছে মোংলা সমুদ্র বন্দর

Update Time : 03:27 pm, Wednesday, 7 January 2026
মোঃ আবু বকর সিদ্দিক মোংলা বাগেরহাট :
রাজনৈতিক অস্থিরতার প্রভাব উপেক্ষা করে দেশ-বিদেশে র পণ্য আমদানি ও রফতানিতে ধারাবাহিক অগ্রগতি ধরে রেখেছে মোংলা সমুদ্র বন্দর। চলতি ২০২৫–২৬ অর্থবছ রে প্রায় ১ কোটি ৩০ লক্ষ মেট্রিক টন পণ্য আমদানি-রফতানির লক্ষ্যমাত্রা নিয়ে কাজ করছে বন্দর কর্তৃপক্ষ। এই প্রবৃদ্ধির ধারাবাহিকতায় মোংলা বন্দরকে ঘিরে দক্ষি
ণ-পশ্চিমাঞ্চলের অর্থনীতিতে এসেছে উল্লেখযোগ্য পরিব র্তন ও গতি।
সংশ্লিষ্টদের মতে, ভৌগোলিক অবস্থান, নাব্যতা ও আধুনি ক অবকাঠামোর কারণে মোংলা সমুদ্র বন্দর একটি সম্ভা বনাময় নৌ-বাণিজ্য কেন্দ্র।
ব্যবসায়ীরা যদি এই বন্দরকে আরও কার্যকরভাবে ব্যব হার করেন, তবে মোংলা শুধু বাংলাদেশের নয়—দক্ষিণ এশিয়ার একটি গুরুত্বপূর্ণ নৌ-বাণিজ্য ও অর্থনৈতিক কর্মকাণ্ডের কেন্দ্রস্থলে পরিণত হতে পারে।
বন্দর সূত্রে জানা গেছে, চলতি অর্থবছরের প্রথম ছয় মাসে মোংলা বন্দর দিয়ে পণ্য পরিবহনে ৪৪০টি বাণি জ্যিক জাহাজ আগমন করেছে।
এর মধ্যে ২৭টি কনটেইনারবাহী জাহাজে বিভিন্ন ধরনের বিদেশি পণ্য আমদানি করা হয়েছে। যেখানে ২০২৪–২৫ অর্থবছরে পুরো বছরে মোট ২১ হাজার ৪৫৬ টিইইউএস কনটেইনার হ্যান্ডলিং করা হয়েছিল, সেখানে চলতি অর্থব ছরের মাত্র ছয় মাসেই ১৭ হাজার ৪০০ টিইইউএস কনটে ইনার হ্যান্ডলিং করা হয়েছে—যা বন্দরের কার্যক্রমে উল্লে খযোগ্য অগ্রগতির স্পষ্ট প্রমাণ।
একই সময়ে মোংলা বন্দর দিয়ে ১৬টি জাহাজে ৫ হাজার ২২২টি জাপানি রিকন্ডিশন গাড়ি আমদানি ও খালাস করা হয়েছে, যা আমদানিকারকদের আস্থার প্রতিফলন হিসেবে দেখা হচ্ছে।
মোংলা সমুদ্র বন্দরকে কেন্দ্র করে ইতোমধ্যে গড়ে উঠেছে অর্ধশতাধিক শিল্পকারখানা, রপ্তানি প্রক্রিয়াজাতকরণ অঞ্চল (ইপিজেড) ও বিশেষ অর্থনৈতিক অঞ্চল।
এর ফলে সরাসরি ও পরোক্ষভাবে ৩০ থেকে ৩৫ হাজার মানুষের কর্মসংস্থান সৃষ্টি হয়েছে। পণ্য আমদানি-রফতানি বৃদ্ধির পাশাপাশি ধারাবাহিকভাবে বাড়ছে বন্দরের রাজস্ব আয়ও, যা জাতীয় অর্থনীতিতে ইতিবাচক অবদান রাখ ছে।
মোংলা বন্দর কর্তৃপক্ষের উপ-পরিচালক মোঃ মাকরুজ্জা মান জানান, মোংলা সমুদ্র বন্দরে বর্তমানে বহুমুখী উন্নয়ন কার্যক্রম চলমান রয়েছে।
অবকাঠামো উন্নয়ন, আধুনিক যন্ত্রপাতি সংযোজন ও সেবা সম্প্রসারণের মাধ্যমে বন্দরের সক্ষমতা আরও বাড়া নো হচ্ছে। পাশাপাশি বেশ কয়েকটি বড় মেগা প্রকল্প বাস্ত বায়নের কাজ চলছে।
এসব প্রকল্প সম্পন্ন হলে দক্ষিণ-পশ্চিমাঞ্চলে নতুন শিল্পা য়ন ত্বরান্বিত হবে এবং ব্যাপক কর্মসংস্থানের সুযোগ সৃষ্টি হবে বলে আশা করা হচ্ছে।
সব মিলিয়ে, রাজনৈতিক বাস্তবতার চ্যালেঞ্জ মোকাবিলা করেও মোংলা সমুদ্র বন্দর আজ দেশের বাণিজ্যিক কর্ম কাণ্ডে একটি গুরুত্বপূর্ণ ভরকেন্দ্র হিসেবে আত্মপ্রকাশ করেছে।
সঠিক পরিকল্পনা ও কার্যকর ব্যবস্থাপনার মাধ্যমে এই বন্দর ভবিষ্যতে জাতীয় অর্থনীতির পাশাপাশি আঞ্চলিক বাণিজ্যেও আরও বড় ভূমিকা রাখবে—এমনটাই মনে কর ছেন সংশ্লিষ্টরা।#