ঝিনাইদহের মহেশপুর সীমান্তবর্তী এলাকায় ধানক্ষেতের আ ইল থেকে মনি বেগম (৫৫) নামে এক নারীর মরদেহ উদ্ধা র করেছে পুলিশ।
মঙ্গলবার (৩ নভেম্বর) দুপুরে উপজেলার ৪ নম্বর স্বরূপপুর ইউনিয়নের পিপুলবাড়িয়া মৌজার চাপাতলা গ্রামের একটি ধানক্ষেতের আইল থেকে তাঁর মরদেহ উদ্ধার করা হয়।
প্রথমে তাঁর পরিচয় জানা না গেলেও পরে মোবাইল ফোনের সূত্র ধরে পরিচয় শনাক্ত করেছে পুলিশ।
তিনি যশোর কোতোয়ালি থানার বেজপাড়া আনসার ক্যাম্প এলাকার বাসিন্দা। তাঁর স্বামীর নাম নাসির উদ্দীন।
পুলিশ ও স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, মঙ্গলবার দুপুর সাড়ে ২টা র দিকে স্থানীয় কৃষক মো. ইসমাইল হোসেন তাঁর ধানক্ষেতে র আইলে এক নারীর মরদেহ পড়ে থাকতে দেখেন।
পরে তিনি বিষয়টি গ্রামের লোকজনকে জানান। খবর পেয়ে মহেশপুর থানা পুলিশ ঘটনাস্থলে পৌঁছে মরদেহ উদ্ধার করে। মরদেহটির মাথা ও শরীর ধানক্ষেতের আইলে এবং দুই পা ক্ষেতের পানিতে ছিল।
এ সময় তাঁর পরনে কালো বোরকা ও গোলাপি রঙের সালো য়ার-কামিজ ছিল। পাশে একটি কালো ভ্যানিটি ব্যাগ ও এক জোড়া জুতা পড়ে ছিল।
তাঁর হাতে চুড়ি, কানে দুল ও নাকে নাকফুল ছিল।পরবর্তী সময়ে মরদেহের সঙ্গে থাকা মোবাইল ফোনের নম্বরের সূত্র ধরে পরিবারের সদস্যদের সঙ্গে যোগাযোগ করে পরিচয় নিশ্চিত করা হয়।
ব্যাগে থাকা ভারতের কয়েকটি মোবাইল নম্বর এবং ফোনের তথ্যও সংগ্রহ করেছে পুলিশ।পরিবারের সদস্যদের বরাত দিয়ে মহেশপুর থানার ওসি ইমরাম আলম জানায়, মনি বেগ মের ছেলে-মেয়ে ও নিকটাত্মীয়রা ভারতে বসবাস করেন।
তাঁদের বাড়িতে বেড়াতে যাওয়ার উদ্দেশ্যে গত ২ নভেম্বর তিনি নিজ বাড়ি থেকে বের হন। ধারণা করা হচ্ছে, পাসপোর্ট ছাড়া অবৈধ পথে সীমান্ত অতিক্রম করে ভারতে যাওয়ার উদ্দেশ্যে মহেশপুর সীমান্ত এলাকায় এসেছিলেন তিনি।
ঘটনাস্থল থেকে ভারতীয় সীমান্তের দূরত্ব আনুমানিক দুই কি লোমিটার।মরদেহের ডান কানের নিচে ক্ষত ও রক্তের চিহ্ন দেখা গেছে। এ ছাড়া শরীরে কিছু অস্বাভাবিক চিহ্ন রয়েছে।
প্রাথমিকভাবে স্ট্রোক অথবা সাপের কামড়ে তাঁর মৃত্যু হয়ে থাকতে পারে বলে ধারণা করছে পুলিশ। তবে মৃত্যুর প্রকৃত কারণ ময়নাতদন্তের প্রতিবেদন পাওয়ার পর জানা যাবে।মহেশপুর থানার এসআই টিপু ঘটনাস্থলে সুরতহাল প্রতিবেদ ন তৈরি করেন। পরে পুলিশ মরদেহ উদ্ধার করে ময়নাতদ ন্তের জন্য ঝিনাইদহ সদর হাসপাতালের মর্গে পাঠায়।
এ ঘটনায় মৃত্যুর প্রকৃত কারণ উদ্ঘাটনে পুলিশ তদন্ত কর ছে। এবিষয়ে ৪৮ বিজিবির সহকারী পরিচালক মুন্সি ইমদা দুর রহমান বলেন এটি সীমান্ত থেকে প্রায় দুই কিলোমিটার দূরে যা বিজিবির বিষয় না। এটি পুলিশ কেস হিসাবে তারা লাশ উদ্ধার করে আইনী কার্যক্রম করছে।

মো: শাহানুর আলম ঝিনাইদহ 


















