বগুড়ার গাবতলী উপজেলার ৩টি সরকারি খাদ্য গুদামে (এলএসডি) স্মরণকালের ভয়াবহ অনিয়ম ও দুর্নীতির অ ভিযোগ উঠেছে।
সুত্র জানায়,গাবতলী উপজেলার ৩টি এল এসডির ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা ও পুরাতন চাল কারবারি চক্র যোগসাজস করেপ্রায় ৫৫ লাখ টাকা মূল্যের শতাধিক টন সরকারি চাল আত্মসাৎ করেছেন বলে অভিযোগ উঠেছে।
সম্প্রতি স্থানীয়রা এসব ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তার (এলএসডি) বিরুদ্ধে ডাকযোগে খাদ্য মন্ত্রণালয়,আঞ্চলিক খাদ্য নিয়ন্ত্রক ও দুর্নীতি দমন কমিশনের (দুদুক) বরাবর লিখিত অভিযোগ প্রেরণ করেছেন।
তারা সরেজমিন অভিযোগের বিষয়ে তদন্ত করে যথাযথ ব্যব স্থা গ্রহণের জন্য সংশ্লিষ্ট বিভাগের উর্ধতন কর্তৃপক্ষের জরুরী হস্তক্ষেপ কামনা করেছেন।
স্থানীয় সুত্রে জানা গেছে, বগুড়া জেলা খাদ্য নিয়ন্ত্রক কার্যাল য়ের আভ্যন্তরীণ চলাচল সুচি নং ১৭ তারিখ ৯ সেপ্টেম্বর ২০ ২৫-২০২৬ আমন এর আওতায় বগুড়ার আদমদীঘি উপজে লার সান্তাহার এলএসডি থেকে জেলার গাবতলী উপজেলার তিনটি এলএসডিতে প্রায় ৬৫০ মেট্টিক টন আমন চাল পাঠা নোর জন্য আইআরটিসি (আভ্যন্তরীন চলাচল) সুচি গ্রহণ করা হয়।
এদিকে সুচি মোতাবেক সান্তাহার এলএসডি থেকে মোট প্রাবয় ৬৪৩ মেট্টিক টনের মধ্যে গাবতলী সদর এলএস ডি তে ১৯৮ মেট্টিক টন, একই উপজেলার সাবেকপাড়া এল এসডি তে ১৯৮ মেট্টিক টন, ও সুখানপুকুর এলএসডিতে ২৪৭ মেট্টি ক টনের সুচি ছিল।
এই সুচির চাল প্রেরণ ও প্রা প্তির শেষ তারিখ ২০ সেপ্টেম্বর সান্তাহার এলএসডি থেকে ৭টি ভি- ইনভয়েস মাধ্যমে একশ ত সাড়ে ১৫ মেট্টিক চালের কাগজপত্র তৈরি করা হয়।
এরপর কাগজে-কলমে চালগুলো প্রেরণ এবং প্রাপ্তি দেখিয়ে বিক্রি করে দেওয়া হয় গাবতলীর সরকারি বিভিন্ন প্রকল্পের চালের কারবারি আলোচিত জনৈক মোস্তাক আহমেদের নিকট।
পুর্ব পরিকল্পনা মোতাবেক ২০ সেপ্টেম্বর সান্তাহার এলএসডি খাদ্য গুদামে আসেন অবৈধ চালের কারবারি মোস্তাক আহমেদ।
সান্তাহার এলএসডি ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা ও তার সহকারী কর্তৃ ক কাগজে কলমে একশত সাড়ে ১৫ মেট্টি ক চাল ওই তিন এলএসডিতে প্রেরণ ও পরিবহন ঠিকাদার কর্তৃক গ্রহন করা দেখানো হয়।
এরপর চাল না দিয়ে শুধু ভি-ইনভয়েস কাগজ দেওয়া হয় মোস্তাক আহেমেদর হাতে।তিনি কাগজগুলো নিয়ে গিয়ে জমা দেন ওই তিন এলএসডির ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তার নিকট।
চালগুলো মোস্তাকের নিকট পুর্বেই বিক্রি করে দিয়ে রাখে ওই তিন এলএসডি খাদ্য গুদামের ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা।
ফলে তারা সান্তাহার এলএসডি থেকে শুধু ওই পরিমান চাল গ্রহণ করার কাগজপত্র তথা ভি- ইনভয়েস গ্রহণ করেন।
পক্ষান্তরে চালগুলো রয়ে যায় সান্তাহার এলএসডির ৯ নম্বর গুদামে। ঘটনার দুই দিন পর ২৩ সেপ্টেম্বর সান্তাহারের চাল কল মালিক জনৈক মতিউর রহমান স্বপন ঢাকা মেট্রো/ ট ১৪-৯৩২৮, ১৮-৪৯৩৯, ১৪-৫৮৯৪ ও ১৬-৫৫২৩ নম্বর ট্রাক দিয়ে সান্তাহার এলএসডির ৯ নম্বর গুদাম থেকে চালগুলো তার ব্যবসা কেন্দ্রে নিয়ে যায় বলে গুঞ্জন রয়েছে।
এদিকে প্রেরণ ও প্রাপ্তি সময়ের শেষ দিন একশত সাড়ে ১৫ মেট্টিক টন চাল পাঠানোর জন্য তৈরি করা ভি- ইনভয়েসে নং ৪১৭২৭২৮ ও ৪১৭২৭৪০সহ সাতটি ভি- ইনভয়েজে যেসব ট্রাক নম্বর দেওয়া হয়েছে সেগুলো ভুয়া বলে জানা গেছে।
প্রাপ্ত তথ্যে জানা গেছে, ঘটনার দিন ও সময়ে ঢাকা মোট্রো/১৪-৭৭৯৩সহ সাতটি ট্রাক সান্তাহার এলএসডিতে প্রবেশ করেনি। ট্রাক গুলো পুর্রের অন্য এক চলাচল সুচির সময় ব্যবহার করেছিলেন পরিবহন ঠিকাদার। অন্যদিকে,এই এক শত সাড়ে ১৫ মেট্টিক টন চাল সান্তাহারের চাল কারবারি স্বপনের কাছে সরবরাহ করার সময় সান্তাহার এলএসডির ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা মোহাম্মদ আলী মিয়া প্রতি কেজি আড়াই টাকা হিসাবে প্রায় তিন লাখ টাকা এবং সহকারী খাদ্য পরিদ র্শক রাজু আহমেদ ট্রাক প্রতি দশ হাজার টাকা হিসাবে ৭০ হাজার ‘উপরি’ নিয়ে বেছে বেছে অপেক্ষাকৃত ভালো মানের তথা আমনের স্বর্ণা-৫ ও গুটি স্বর্ণা চাল সরবরাহ করেছেন বলেও আলোচনা রয়েছে।
এবিষয়ে গাবতলী উপজেলা সদর, উপজেলার সুখানপুকুর ও সাবেকপাড়া এলএসডি খাদ্য গুদামের ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা যথাক্রমে আব্দুল আলিম, দেবায়ন বাগচি ও শাকিল হোসে নের সঙ্গে মোবাইল ফোনে যোগাযোগ করা হলে তারা অভি যোগ অস্বীকার করে বলেন, অভিযোগের তথ্য সম্পুর্ন মিথ্যা ও বানোয়াট। সুচির সব বুঝে নিয়েছি এবং খাদ্য বান্ধব ছাড়া ও সরকারের বিভিন্ন কর্মসুচিতে সরবরাহ করেছি।
এদিকে সান্তাহার এলএসডির ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা মোহাম্মদ আলী মিয়া সদ্য সমাপ্ত বোরো খাদ্য শস্য সংগ্রহ মৌসুমে মতি উর রহমান স্বপন নামে সান্তাহারের চালকল মালিক এর নিক ট থেকে প্রতি কেজি আড়াই টাকা হিসাবে মোট সোয়া ৬ লাখ টাকা নিয়ে ২৫০ মেট্টিক টন আমন চাল বের করে দিয়ে বো রো চাল নিয়েছেন বলে অভিযোগ উঠেছে।
এসময় এলএসডির উপপরির্দশক রাজু আহমেদ ২৫০ টন তথা ১৪ ট্রাক চাল বদল করে দেওয়া নেওযার জন্য স্বপনের নিকট থেকে ট্রাক প্রতি ৫ হাজার টাকা করে উৎকোচ নিয়ে ছেন বলে অভিযোগ উঠেছে।
এবিষয়ে সাক্ষাতে যোগাযোগ করা হলে সান্তাহার এলএস ডির ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা মোহাম্মাদ আলী মিয়া সাংবাদিকদের বলেন অভিযোগ পুরোপুরি মিথ্যা ও বানোয়াট, উক্ত অভিযো গের সাথে আমাদের কার্ক্রমের কোন মিল নাই বলেও দাবি করেন।#

নিজস্ব প্রতিবেদক,রাজশাহী: 


















