Dhaka , Tuesday, 3 November 2026
সর্বশেষ:
মহেশপুরে ধানক্ষেতের আইল থেকে উদ্ধারকৃত মরদেহের পরিচয় মিলেছে  সান্তাহার এলএসডির বিরুদ্ধে নানা অনিয়ম ও দুর্নীতির অভিযোগ ঝিকরগাছায় অগ্রযাত্রা প্রতিদিনে’র ১ম প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী পালিত  ঝিকরগাছায় মহিলা মাদ্রাসার জমজ শিশু নিপীড়ন: তদন্ত কমিটির প্রতিবেদনে সত্যতা মেলেনি:ইউএনও  বীর মুক্তিযোদ্ধা মানিক পশারীর জানাজা ও রাষ্ট্রীয় মর্যাদায় দাফনে বাধার প্রতিবাদে ঠাকুরগাঁওয়ে মানববন্ধন হামলা-মমলা পেরিয়ে জনজনগনের সেবক হওয়ার স্বপ্ন সাইফুজ্জামান রিন্টু মুন্সির পায়ুপথে স্বর্ণের পেস্ট নিয়ে ভারতে পাচারের চেষ্টাকালে  সাতক্ষীরার ভোমরা সীমান্তে এক ভারতীয় নাগরিক আটক  বাগেরহাটে প্রধানমন্ত্রীর আগমন উপলক্ষে বিএনপির আনন্দ মিছিল বাংলাদেশ-ভারত সীমান্তে শান্তি ফেরাতে বিজিবি-বিএসএফের নতুন অঙ্গীকার গোপালগঞ্জে ১৪ শিক্ষক, পরীক্ষার্থী মাত্র একজন; এইচএসসিতে পাসের হার শূন্য

গোপালগঞ্জে ১৪ শিক্ষক, পরীক্ষার্থী মাত্র একজন; এইচএসসিতে পাসের হার শূন্য

গোপালগঞ্জের মুকসুদপুর উপজেলার দুর্গম গ্রামীণ এলাকায় অবস্থিত দুর্বাশুর আদর্শ মাধ্যমিক বিদ্যালয় অ্যান্ড কলেজ।

প্রতিষ্ঠানটির স্কুল শাখায় রয়েছেন ১৪ জন এমপিওভুক্ত শি ক্ষক।

অথচ কলেজ শাখায় শিক্ষার্থী সংকট এতটাই প্রকট যে, চল তি বছরের এইচএসসি পরীক্ষায় অংশ নিয়েছিলেন মাত্র এক জন শিক্ষার্থী। তিনিও পাস করতে পারেননি।

ফলে ২০২৬ সালের এইচএসসি পরীক্ষায় কলেজটির পাসের হার শূন্য শতাংশ।

শনিবার (১ নভেম্বর) প্রকাশিত এইচএসসি পরীক্ষার ফলা ফলে ঢাকা শিক্ষা বোর্ডের শূন্য পাসের প্রতিষ্ঠানের তালিকায় উঠে এসেছে দুর্বাশুর আদর্শ মাধ্যমিক বিদ্যালয় অ্যান্ড কলে জের নাম।

কলেজ সূত্রে জানা গেছে, চলতি বছর মানবিক বিভাগ থেকে একজন শিক্ষার্থী এইচএসসি পরীক্ষায় অংশ নেন। বিজ্ঞান ও ব্যবসায় শিক্ষা বিভাগে কোনো পরীক্ষার্থী ছিল না।

প্রকাশিত ফলাফলে ওই একমাত্র শিক্ষার্থীও অকৃতকার্য হন।

১৯৯৮ সালে প্রতিষ্ঠিত হয় দুর্বাশুর আদর্শ মাধ্যমিক বিদ্যা লয়। পরে ২০০৯ সালে প্রতিষ্ঠানটিতে কলেজ শাখা চালু করা হয়।

বর্তমানে স্কুল শাখায় ১৪ জন শিক্ষক কর্মরত রয়েছেন। তাঁরা সবাই এমপিওভুক্ত এবং নিয়মিত বেতন-ভাতা পান।

তবে কলেজ শাখায় বিজ্ঞান, মানবিক ও ব্যবসায় শিক্ষা বিভা গ চালু থাকলেও সেখানে শিক্ষার্থী ভর্তির সংখ্যা দীর্ঘদিন ধরে ই কম বলে সংশ্লিষ্ট সূত্র জানিয়েছে।

প্রতিষ্ঠানটির স্কুল শাখার প্রধান শিক্ষক স্বর্ণা রানি বিশ্বাস বলেন, গ্রামীণ এলাকায় হওয়ায় কলেজ শাখায় পর্যাপ্ত শিক্ষা র্থী পাওয়া যায় না।

তাঁর দাবি, শিক্ষার্থী কম থাকায় কলেজের পাঠদান কার্যক্র মেও সংকট তৈরি হয়েছে।

তিনি বলেন, “কলেজটি গ্রামীণ এলাকায় হওয়ায় ছাত্র তেমন পাওয়া যায় না। এজন্য শিক্ষকরাও কলেজে আসেন না।

শিক্ষার্থী ভর্তির ব্যাপারেও তাঁদের কোনো উৎসাহ নেই।”

শিক্ষার্থী বাড়াতে বিভিন্নভাবে চেষ্টা করছেন জানিয়ে প্রধান শিক্ষক বলেন, এ জন্য প্রতিবছর তাঁকে নিজের পকেট থেকে ও টাকা খরচ করতে হচ্ছে।

প্রতিষ্ঠানটির প্রতিষ্ঠাতা পরিতোষ সরকার বলেন, কলেজ শাখার অনুমোদন নেওয়ার সময় সেখানে শিক্ষক ছিলেন।

কিন্তু পরে এমপিওভুক্ত না হওয়ায় অনেক শিক্ষক প্রতিষ্ঠান ছেড়ে চলে যান। বর্তমান পরিস্থিতিতে কলেজ শাখাটি চালু রাখা নিয়ে তিনি প্রশ্ন তোলেন।

তাঁর ভাষায়, “কলেজটি বন্ধ হয়ে গেলেই ভালো।”

প্রতিষ্ঠানটির নতুন সভাপতি পরিমল কীর্তন বলেন, তিনি মাত্র এক সপ্তাহ আগে সভাপতির দায়িত্বসংক্রান্ত চিঠি পেয়ে ছেন।

এখনো প্রতিষ্ঠানে গিয়ে কোনো সভা করতে পারেননি। তাই কলেজের বর্তমান পরিস্থিতি সম্পর্কে বিস্তারিত জানেন না।

উপজেলা মাধ্যমিক শিক্ষা কর্মকর্তা মাহফুজা বেগম বলেন, মাধ্যমিক শিক্ষা কর্মকর্তার দপ্তরের দায়িত্ব মূলত স্কুল পর্যায় পর্যন্ত। কলেজ শাখা তাঁদের সরাসরি দায়িত্বের মধ্যে পড়ে না।

কলেজ পর্যায়ের বিষয়টি সংশ্লিষ্ট শিক্ষা প্রশাসনের কর্মকর্তা রা দেখভাল করেন বলে জানান তিনি।

এ বিষয়ে মুকসুদপুর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মাহমুদ আ শিক কবির বলেন, প্রতিষ্ঠানটি থেকে মাত্র একজন শিক্ষার্থী পরীক্ষায় অংশ নিয়ে অকৃতকার্য হওয়ার বিষয়টি তিনি জেনে ছেন।

তিনি বলেন, “বিষয়টি খতিয়ে দেখে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নে ওয়া হবে।”

স্কুল শাখায় ১৪ জন এমপিওভুক্ত শিক্ষক থাকার পরও কলে জ শাখায় শিক্ষার্থীর এমন সংকট এবং এবারের এইচএসসি পরীক্ষায় একমাত্র পরীক্ষার্থীরও অকৃতকার্য হওয়া প্রতিষ্ঠা নটির শিক্ষা কার্যক্রম নিয়ে প্রশ্ন তুলেছে।

কলেজ শাখায় নিয়মিত পাঠদান হচ্ছে কি না, শিক্ষার্থী ভর্তির ক্ষেত্রে সংকটের কারণ কী এবং প্রতিষ্ঠানটি কার্যকরভাবে পরিচালিত হচ্ছে কি না এসব বিষয় খতিয়ে দেখার দাবি জানিয়েছেন স্থানীয়রা।

About Author Information

মহেশপুরে ধানক্ষেতের আইল থেকে উদ্ধারকৃত মরদেহের পরিচয় মিলেছে 

গোপালগঞ্জে ১৪ শিক্ষক, পরীক্ষার্থী মাত্র একজন; এইচএসসিতে পাসের হার শূন্য

Update Time : One hour ago

গোপালগঞ্জের মুকসুদপুর উপজেলার দুর্গম গ্রামীণ এলাকায় অবস্থিত দুর্বাশুর আদর্শ মাধ্যমিক বিদ্যালয় অ্যান্ড কলেজ।

প্রতিষ্ঠানটির স্কুল শাখায় রয়েছেন ১৪ জন এমপিওভুক্ত শি ক্ষক।

অথচ কলেজ শাখায় শিক্ষার্থী সংকট এতটাই প্রকট যে, চল তি বছরের এইচএসসি পরীক্ষায় অংশ নিয়েছিলেন মাত্র এক জন শিক্ষার্থী। তিনিও পাস করতে পারেননি।

ফলে ২০২৬ সালের এইচএসসি পরীক্ষায় কলেজটির পাসের হার শূন্য শতাংশ।

শনিবার (১ নভেম্বর) প্রকাশিত এইচএসসি পরীক্ষার ফলা ফলে ঢাকা শিক্ষা বোর্ডের শূন্য পাসের প্রতিষ্ঠানের তালিকায় উঠে এসেছে দুর্বাশুর আদর্শ মাধ্যমিক বিদ্যালয় অ্যান্ড কলে জের নাম।

কলেজ সূত্রে জানা গেছে, চলতি বছর মানবিক বিভাগ থেকে একজন শিক্ষার্থী এইচএসসি পরীক্ষায় অংশ নেন। বিজ্ঞান ও ব্যবসায় শিক্ষা বিভাগে কোনো পরীক্ষার্থী ছিল না।

প্রকাশিত ফলাফলে ওই একমাত্র শিক্ষার্থীও অকৃতকার্য হন।

১৯৯৮ সালে প্রতিষ্ঠিত হয় দুর্বাশুর আদর্শ মাধ্যমিক বিদ্যা লয়। পরে ২০০৯ সালে প্রতিষ্ঠানটিতে কলেজ শাখা চালু করা হয়।

বর্তমানে স্কুল শাখায় ১৪ জন শিক্ষক কর্মরত রয়েছেন। তাঁরা সবাই এমপিওভুক্ত এবং নিয়মিত বেতন-ভাতা পান।

তবে কলেজ শাখায় বিজ্ঞান, মানবিক ও ব্যবসায় শিক্ষা বিভা গ চালু থাকলেও সেখানে শিক্ষার্থী ভর্তির সংখ্যা দীর্ঘদিন ধরে ই কম বলে সংশ্লিষ্ট সূত্র জানিয়েছে।

প্রতিষ্ঠানটির স্কুল শাখার প্রধান শিক্ষক স্বর্ণা রানি বিশ্বাস বলেন, গ্রামীণ এলাকায় হওয়ায় কলেজ শাখায় পর্যাপ্ত শিক্ষা র্থী পাওয়া যায় না।

তাঁর দাবি, শিক্ষার্থী কম থাকায় কলেজের পাঠদান কার্যক্র মেও সংকট তৈরি হয়েছে।

তিনি বলেন, “কলেজটি গ্রামীণ এলাকায় হওয়ায় ছাত্র তেমন পাওয়া যায় না। এজন্য শিক্ষকরাও কলেজে আসেন না।

শিক্ষার্থী ভর্তির ব্যাপারেও তাঁদের কোনো উৎসাহ নেই।”

শিক্ষার্থী বাড়াতে বিভিন্নভাবে চেষ্টা করছেন জানিয়ে প্রধান শিক্ষক বলেন, এ জন্য প্রতিবছর তাঁকে নিজের পকেট থেকে ও টাকা খরচ করতে হচ্ছে।

প্রতিষ্ঠানটির প্রতিষ্ঠাতা পরিতোষ সরকার বলেন, কলেজ শাখার অনুমোদন নেওয়ার সময় সেখানে শিক্ষক ছিলেন।

কিন্তু পরে এমপিওভুক্ত না হওয়ায় অনেক শিক্ষক প্রতিষ্ঠান ছেড়ে চলে যান। বর্তমান পরিস্থিতিতে কলেজ শাখাটি চালু রাখা নিয়ে তিনি প্রশ্ন তোলেন।

তাঁর ভাষায়, “কলেজটি বন্ধ হয়ে গেলেই ভালো।”

প্রতিষ্ঠানটির নতুন সভাপতি পরিমল কীর্তন বলেন, তিনি মাত্র এক সপ্তাহ আগে সভাপতির দায়িত্বসংক্রান্ত চিঠি পেয়ে ছেন।

এখনো প্রতিষ্ঠানে গিয়ে কোনো সভা করতে পারেননি। তাই কলেজের বর্তমান পরিস্থিতি সম্পর্কে বিস্তারিত জানেন না।

উপজেলা মাধ্যমিক শিক্ষা কর্মকর্তা মাহফুজা বেগম বলেন, মাধ্যমিক শিক্ষা কর্মকর্তার দপ্তরের দায়িত্ব মূলত স্কুল পর্যায় পর্যন্ত। কলেজ শাখা তাঁদের সরাসরি দায়িত্বের মধ্যে পড়ে না।

কলেজ পর্যায়ের বিষয়টি সংশ্লিষ্ট শিক্ষা প্রশাসনের কর্মকর্তা রা দেখভাল করেন বলে জানান তিনি।

এ বিষয়ে মুকসুদপুর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মাহমুদ আ শিক কবির বলেন, প্রতিষ্ঠানটি থেকে মাত্র একজন শিক্ষার্থী পরীক্ষায় অংশ নিয়ে অকৃতকার্য হওয়ার বিষয়টি তিনি জেনে ছেন।

তিনি বলেন, “বিষয়টি খতিয়ে দেখে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নে ওয়া হবে।”

স্কুল শাখায় ১৪ জন এমপিওভুক্ত শিক্ষক থাকার পরও কলে জ শাখায় শিক্ষার্থীর এমন সংকট এবং এবারের এইচএসসি পরীক্ষায় একমাত্র পরীক্ষার্থীরও অকৃতকার্য হওয়া প্রতিষ্ঠা নটির শিক্ষা কার্যক্রম নিয়ে প্রশ্ন তুলেছে।

কলেজ শাখায় নিয়মিত পাঠদান হচ্ছে কি না, শিক্ষার্থী ভর্তির ক্ষেত্রে সংকটের কারণ কী এবং প্রতিষ্ঠানটি কার্যকরভাবে পরিচালিত হচ্ছে কি না এসব বিষয় খতিয়ে দেখার দাবি জানিয়েছেন স্থানীয়রা।